কৃমি কেন হয় - অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়
কৃমি কেন হয়? এর কারণ আমরা অনেকেই জানিনা। কৃমির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত কিন্তু কৃমি কেন হয়? বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। এই আর্টিকেলে কৃমি কেন হয়? যা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট কৃমি কেন হয়? বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে সম্পূর্ণ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।
সূচিপত্রঃ কৃমি কেন হয় - অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়
- কৃমি কেন হয় - কি খেলে কৃমি হয়
- অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়
- বাচ্চাদের কৃমি হওয়ার লক্ষণ
- পেটে কৃমি হলে কি হয়
- বড়দের গুড়া কৃমি কেন হয়
- কৃমি দূর করার উপায়
- আমাদের শেষ কথা
কৃমি কেন হয় - কি খেলে কৃমি হয়?
কৃমি হলো এক ধরনের পরজীবী। এটি মানুষের পেটের ভেতরে বাস করে। আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের কৃমি হয়ে থাকে। যা বিভিন্ন আকারের হয়। কৃমি কেন হয়? এবং কি খেলে কৃমি হয়? এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে আমরা খুব সহজেই কৃমি থেকে বেঁচে থাকতে পারবো। আমাদের স্বাস্থ্যের সুবিধার্থে কি খেলে কৃমি হয়? তা জেনে নেওয়া যাক।
আরো পড়ুনঃ দুধ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
১। বিভিন্ন কারণে কৃমি হয়ে থাকে। কৃমি হওয়ার মধ্যে অন্যতম হলো অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার।
২। অপরিষ্কার ঘরবাড়িতে বসবাস করা।
৩। টয়লেট এরপরে ভালোভাবে হাত না ধোয়া।
৪। দূষিত পানি ব্যবহার করা। খাবার ভালোভাবে না দিয়ে রান্না করা।
৫। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা।
৬। হাতের নখ বড় রাখা এছাড়া ভালোভাবে সেদ্ধ হয়নি এরকম গরুর মাংস খাওয়া।
৭। অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করার ফলে আমাদের কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৮। অতিরিক্ত পরিমাণে মিষ্টি খেলে কিরমি হয়ে থাকে।
অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়
কৃমি ছোটদের হয়ে থাকে এমনটা নয়, বড়দেরও কৃমির হয়ে থাকে। অতিরিক্ত কৃমি হলে করণীয় গুলো জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই কৃমি থেকে রেহাই পেতে পারি। এর জন্য আমাদেরকে কৃমি হয়েছে এরকম লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। প্রচন্ড পরিমাণে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব হওয়া মলদ্বার চুলকানো হলে কৃমি হয়েছে বুঝতে হবে। অতিরিক্ত কৃমি হলে করণীয় নিচে উল্লেখ করা হলো।
আপনার পেটে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কৃমি হয়ে যায় তাহলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি কোয়া রসুন খেলে কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেহেতু রসুন এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক তাই এগুলো কৃমিকে তাড়াতে সাহায্য করে।
গাজর কৃমি সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি করে গাজর খেলে কৃমির প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ গাজরের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং বিটা ক্যারোটিন যাকে নিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
আপেল সিডার ভিনেগার খেতে পারেন। আপেল সিডার ভিনেগার কৃমি প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে আপেল সিডার ভিনেগার খেতে পারেন।
আনারস পরজীবী অর্থাৎ কৃমি মারতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পরপর কয়েকদিন আনারস খেলে এটি কৃমি দমন করতে সাহায্য করে। তাই আপনার যদি অতিরিক্ত কৃমি হয়ে থাকে তাহলে আনারস খেতে পারেন।
বাচ্চাদের কৃমি হওয়ার লক্ষণ
কৃমি এমন একটি সমস্যা যা সব বয়সের মানুষের মাঝে দেখা যায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায় এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ক্ষতিকর। যেহেতু শিশুরা কৃমি হলে বুঝতে পারেন না তাই বাচ্চাদের কৃমি হওয়ার লক্ষণ গুলো দেখে আপনাকেই বুঝতে হবে। সেজন্য আপনাকে বাচ্চাদের কৃমি হওয়ার লক্ষণ জানতে হবে।
১। আপনার বাচ্চার যদি ঘন ঘন পেট ব্যথা ও খিদে কম পায় তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চার পেটে কৃমি রয়েছে।
২। খাবার খাওয়ার সময় যদি পেটে ব্যথা হওয়ার লক্ষণ হল বাচ্চার পেটে কৃমি হওয়া।
৩। শিশু যদি অতিরিক্ত পরিমাণে থুথু ফেলতে থাকে তাহলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৪। শিশু যদি অকারণে কামড় দিয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে শিশুর পেটে কৃমি হয়েছে। কারণ কৃমি হলে শিশু এরকম আচরণ করে থাকে।
৫। অনেক সময় শিশুদের মলত্যাগ করার সময় কৃমি বের হয়। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পেটে কৃমি হলে কি হয়
পেটে কৃমি কেন হয়? এই কারণটি জেনে রাখতে পারলে আমরা খুব সহজেই এর চিকিৎসা বাড়িতে বসে করতে পারব। পেটে কৃমি হলে কি হয়? সে সম্পর্কেও আমাদের ধারণা রাখতে হবে। পেটে কৃমি হলে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায় চলুন পেটে কৃমি হলে কি হয়? জেনে নেওয়া যাক।
আরো পড়ুনঃ ঈমান বৃদ্ধির দোয়া - ঈমান বৃদ্ধি করার বই
- শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে দুর্বার হয়ে পড়ে।
- পেটে কৃমি হলে তলপেটে ব্যথা করে।
- পেটে কৃমি হলে ক্ষুধা মন্দা দেখা যায়।
- শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- কৃমি হলে কাশি হয়ে থাকে।
- ডায়রিয়া দেখা যায়।
- বমি বমি ভাব এর সাথে বমি হয়।
- কৃমি হলে ওজন কমে যাওয়া এর বড় লক্ষণ।
বড়দের গুড়া কৃমি কেন হয়
বড়দের গুড়া কৃমি কেন হয়? বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। যেহেতু কৃমি সব বয়সী মানুষের মাঝে হয়ে থাকে তাই বড়দের গুড়া কৃমি কেন হয়? এ সম্পর্কে জেনে এর চিকিৎসা করা উত্তম। কৃমি হওয়ার প্রধান কারণ হলো অপরিষ্কার পরিবেশে বসবাস করা এবং অসচেতনতা। আমাদের দেশে অনেক মানুষ রয়েছে যারা স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করেনা।
সাধারণত খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে যার ফলে কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া খাওয়ার আগে অথবা মলত্যাগ করার পরে ভালো হবে হাত ধোয় না যার ফলে কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পেয়ে যায়। যে কোন খাবার খাওয়ার আগে সে খাবারকে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নেয় না।
কৃমি দূর করার উপায়
কৃমি কেন হয়? এর কারণ জানার পরে কৃমি দূর করার উপায় গুলো অবলম্বন করে আমরা খুব সহজেই এখান থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিতে পারি। থে আপনাদের স্বাস্থ্যের সুবিধার্থে কৃমি দূর করার উপায় গুলো নিজে উল্লেখ করা হলো।
কৃমি দূর করার উপায়ঃ
১। কৃমি দূর করার জন্য মধু এবং কাঁচা পেঁপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সাথে এক চামচ মধু এবং কাঁচা পেঁপের রস মিশিয়ে খালি পেটে খেতে পারেন তাহলে কৃমির দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২। লবঙ্গ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনি যদি এক কাপ গরম পানির সাথে কয়েকটি লবঙ্গ মিশিয়ে পান করতে পারেন অথবা চায়ের সাথে লবঙ্গ মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এটি কৃমি দূর করতে সাহায্য করবে।
৩। নিম পাতা কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। যেহেতু নিম পাতার তেতো সাধের হয়ে থাকে তাই কৃমি অতিরিক্ত তেতো সহ্য করতে পারে না। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম পানির সাথে নিম পাতার রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ মিসক্যারেজ কেন হয় - কি খেলে মিসক্যারেজ হয়
৪। কুমড়ো বীজ কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে কৃমি দূর করার কিছু পুষ্টি উপাদান। পানি এবং সমপরিমাণ নারিকেল দুধ মিশিয়ে খেতে পারেন।
৫। কৃমি দূর করতে কাঁচা হলুদ ভূমিকা রাখে। আপনি যদি কৃমি দূর করতে চান তাহলে খালি পেটে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। কৃমি দূর করতে এটি খুবই কার্যকরী।
আমাদের শেষ কথাঃ কৃমি কেন হয় - অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়
আজকের এই আর্টিকেলে কৃমি কেন হয়? অতিরিক্ত কৃমি হলে করণীয়, কৃমি দূর করার উপায়, বড়দের গুড়া কৃমি কেন হয়? পেটে কৃমি হলে কি হয়? বাচ্চাদের কৃমি হওয়ার লক্ষণ, অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয়, কি খেলে কৃমি হয়? এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন ধন্যবাদ। ২০৭৯১
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url